সংখ্যাবাচক শব্দ । বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম-দশম শ্রেণি । Nahid Hasan Munnna

যেসব শব্দ দিয়ে সংখ্যা বােঝায়, সেগুলােকে সংখ্যাবাচক শব্দ বা সংখ্যাশব্দ বলে। এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ, ছয় প্রভৃতি সংখ্যাশব্দ – এগুলাে এখানে কথায় লেখা হয়েছে। আবার বিশেষ কিছু বর্ণ বা সংকেত দিয়ে এগুলাে প্রকাশ করা যায়, যথা: ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬ প্রভৃতি সংখ্যাশব্দ – এগুলাে এখানে অঙ্কে বা সংখ্যাবর্ণে লেখা হয়েছে। দূরত্ব, দৈর্ঘ্য, আয়তন, খণ্ড, তাপমাত্রা ইত্যাদি পরিমাপের ক্ষেত্রে সংখ্যাশব্দের ব্যাপক ব্যবহার হয়। সংখ্যাশব্দ দুই রকমের ক্রমবাচক ও পূরণবাচক। ক্রমবাচক, যথা: এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ। পূরণবাচক, যথা: প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম।

১. ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ

একের পর এক যে সংখ্যাগুলাে আসে, সেগুলাে ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ। যেমন – ১ (এক), ২ (দুই), ৩ (তিন), ৪ (চার), ৫ (পাঁচ), ৬ (ছয়), ৭ (সাত), ৮ (আট), ৯ (নয়), ১০ (দশ), ১১ (এগারাে), ১২ (বারাে), ১৩ (তেরাে), ১৪ (চোদ্দ), ১৫ (পনেরাে), ১৬ (ষােলাে), ১৭ (সতেরাে), ১৮ (আঠারাে), ১৯ (উনিশ), ২০ (বিশ) ইত্যাদি। ক্রমবাচক সংখ্যাবর্ণের সুবিধা হলাে এতে ১ থেকে ৯ এবং ০ দিয়ে অসীম সংখ্যার পূর্ব পর্যন্ত ক্রম তৈরি করা যায়। ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দের এক বা একাধিক প্রতিশব্দ রয়েছে। এগুলাে কখনাে স্বতন্ত্রভাবে ব্যবহৃত হয়, কখনাে সমাসবদ্ধ শব্দের পূর্বপদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেমন দুই সংখ্যাশব্দের প্রতিশব্দ দ্বি’, ‘দু, এবং ‘দো’। তিন সংখ্যাশব্দের প্রতিশব্দ ত্রি’ এবং ‘তে।

২. পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ

পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ দিয়ে কোনাে সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বােঝায়। যেমন ‘এক সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ‘প্রথম’, ‘প্রথমা’, ‘পহেলা ইত্যাদি। এগুলােকে পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ বলে। পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ তিন ধরনের হয়: ১. সাধারণ পূরণবাচক, ২. তারিখ পূরণবাচক ও ৩. ভগ্নাংশ পূরণবাচক।

সাধারণ পূরণবাচক

ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থানকে নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে। যেমন – প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম, একাদশ বা এগারােতম ইত্যাদি। সাধারণ পূরণবাচক সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায়। যেমন – ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম ইত্যাদি।

১১ থেকে ১৮ পর্যন্ত সংখ্যার পূর্ণ পূরণবাচক ও সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক দুই রকম: একাদশ (১১শ) ও এগারােতম (১১তম), দ্বাদশ (১২শ) ও বারােতম (১২তম), ত্রয়ােদশ (১৩শ) ও তেরােতম (১৩তম), চতুর্দশ (১৪শ) ও চোদ্দতম (১৪তম), পঞ্চদশ (১৫শ) ও পনেরােতম (১৫তম), ষােড়শ (১৬শ) ও ষােলােতম (১৬তম), সপ্তদশ (১৭শ) ও সতেরােতম (১৭তম), অষ্টাদশ (১৮শ) ও আঠারােতম (১৮তম)। ১৯ থেকে ৯৯ পর্যন্ত সংখ্যার সংক্ষিপ্ত পূরণবাচকে শুধু তম প্রত্যয় যােগ করা হয়। যথা: উনিশতম বা ঊনবিংশতিতম (১৯তম), বিশতম বা বিংশতিতম (২০তম), একুশতম বা একবিংশতিতম (২১তম), আটাশতম বা অষ্টাবিংশতিতম (২৮তম), উনপঞ্চাশতম বা উনপঞ্চাশত্তম (৪৯তম), আশিতম বা অশীতিতম (৮০তম), নব্বইতম বা নবতিতম (৯০তম), নিরানব্বইতম বা নবনবতিতম (৯৯তম) ইত্যাদি। বাংলা ভাষায় সাধারণ পূরণবাচকের নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে। যেমন – প্রথমা (১মা), দ্বিতীয়া (২য়া), তৃতীয়া (৩য়া), চতুর্থী (৪র্থ), পঞ্চমী (৫মী), ষষ্ঠী (৬ষ্ঠী), সপ্তমী (৭মী), অষ্টমী (৮মী), নবমী (৯মী), দশমী (১০মী), একাদশী (১১শী), দ্বাদশী (১২শী), ত্রয়ােদশী (১৩শী), চতুর্দশী (১৪শী), পঞ্চদশী (১৫শী), ষােড়শী (১৬শী), সপ্তদশী (১৭শী), অষ্টাদশী (১৮শী) ইত্যাদি।

তারিখ পূরণবাচক

বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়। যথা: পহেলা বা পয়লা (১লা), দোসরা (২রা), তেসরা (৩রা), চৌঠা (৪ঠা), পাঁচই (৫ই), ছয়ই (৬ই), সাতই (৭ই), আটই (৮ই), নয়ই (৯ই), দশই (১০ই), এগারােই (১১ই), বারােই (১২ই), তেরােই (১৩ই), চোদ্দই (১৪ই), পনেরােই (১৫ই), যােলােই (১৬ই), সতেরােই (১৭ই), আঠারােই (১৮ই), উনিশে (১৯শে), বিশে (২০শে), একুশে (২১শে), বাইশে (২২শে), তেইশে (২৩শে), চব্বিশে (২৪শে), পঁচিশে (২৫শে), ছাব্বিশে (২৬শে), সাতাশে (২৭শে), আটাশে (২৮শে), উনত্রিশে (২৯শে), ত্রিশে (৩০শে), একত্রিশে (৩১শে)।

ভগ্নাংশ পূরণবাচক

কখনাে পূর্ণসংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বােঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়। যেমন – আধ, সাড়ে, পােয়া, সােয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই, চৌথ ইত্যাদি।

অনুশীলনী

১. নিচের কোনটি সংখ্যাবর্ণ?

ক. পাঁচ

খ. ৩

গ. আড়াই

ঘ. ৪ঠা

২. নিচের কোনটি সংখ্যাশব্দ?

ক. বারাে

খ. ২৩৩

গ. দুজন

ঘ. একাকী

৩. একের পর এক যে সংখ্যাগুলাে আসে সেগুলােকে কী বলে?

ক. ক্রমবাচক

খ. পূরণবাচক

গ, সংখ্যাবাচক 

ঘ, তারিখবাচক

৪. নিচের কোনটি পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ?

ক. পহেলা

খ. সাত

গ. সতেরাে

ঘ. দ্বি

৫. নিচের কোনটি পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ নয়?

ক. উনিশে

খ. আড়াই

গ, আশি

ঘ. তেহাই

৬. সাধারণ পূরণবাচকের নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে কোনটিতে?

ক. দশমী

খ. ষােড়শ

গ. আটাশে

ঘ, মােলই

৭. পূর্ণসংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা বেশি বােঝালে কী ধরনের পূরণবাচক হয়?

ক. গুণিতক পূরণবাচক

খ. ভগ্নাংশ পূরণবাচক

গ. তারিখ পূরণবাচক

ঘ. সাধারণ পূরণবাচক

 

This article is written by :

Nahid Hasan Munna

University of Rajshahi

FOUNDER & CEO OF NAHID24

Follow him on FacebookInstagramYoutubeTwitterLinkedin

 

Leave a Comment

eight − two =